শাহীন ডেস্ক : মোহময় সুর আর নৃত্যের তালে তালে বেজে উঠেছিল প্রাঙ্গণ। শ্রোতা-দর্শক উদ্বেলিত হয়েছিল মাঘের শীতের শেষ বিকেলে।
মনের মণিকোঠায় দিনটি নিশ্চয়ই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে। ‘সংস্কৃতি’ শিক্ষা গ্রহণের হিরন্ময় হাতিয়ার-ধারণাটি আজ যেন সত্যিই মনে করিয়ে দিলো শাহীনের শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো আজ ২৮ জানুয়ারি। কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ তারিকুল ইসলাম, বিএসপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি,সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী । আরও উপস্থিত ছিলেন এয়ার কমডোর মো: তাহিদুল ইসলাম,বিইউপি,অধ্যক্ষ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুর। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ এর বিভিন্ন ইউনিটের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ।
বেলা ০৩ টায় প্রধান অতিথির অনুমতিক্রমে বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের
যাত্রা শুরু হয়। পৌরনীতি বিভাগের প্রভাষক তাজিন জাহেদের তত্ত্বাবধান এবং সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি উপভোগ্য করে তোলে ০৪ জন উচ্ছ্বলপ্রাণ শিক্ষার্থী। বর্ণিল সাজে সজ্জিত অডিটোরিয়াম ছাত্র-শিক্ষক এবং অভিভাবকদের মিলন মেলায় রূপ নেয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজ থিম সং পরিবেশন করে শিশু শাহীনেরা। এরপর একে একে কবিতা, অভিনয়, গান এবং নাচের ঝঙ্কারে মুখরিত হয়ে ওঠে দর্শক শ্রোতা।
বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মোট ০৭ টি বিভাগে (কুরআন তেলাওয়াত, হামদ্ ও নাত, ছড়া ও কবিতা, গান, নৃত্য, কুইজ, উপস্থিত বক্তৃতা) শিক্ষার্থীরা পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া কলেজ শাখায় মো: মতিউর রহমান (প্রভাষক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) ও স্কুল শাখায় সহকারী শিক্ষক শাহানা সুলতানাকে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-২০২৫’ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি গর্ব অনুভব করছি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুর প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি চর্চার এক মহাযজ্ঞ আয়োজন করে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বতঃস্ফূর্ত মেধার স্ফুরণ ঘটিয়ে থাকে। একটি জাতি বিনির্মাণে যেমন মেধাবী শিক্ষার্থী প্রয়োজন তেমনি সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে তারা যেন পরিপূর্ণ মানুষে পরিণত হয় সে বিষয়েও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। আধুনিক পৃথিবীতে অগ্রগতির জন্য বিশেষ প্রয়োজন বিজ্ঞান। শিক্ষার্থীদের তাই বিজ্ঞানমনস্ক হতে হবে এবং বাস্তব সম্মত বিজ্ঞানকে উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষকরা তার শিক্ষার্থীকে ক্লাসের বাইরেও নতুন নতুন বিজ্ঞান প্রজেক্ট তৈরি করা শেখাতে হবে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী তথা ঘাঁটি বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই দায়িত্বটি পালন করে যাচ্ছেন। তাঁর হাত ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই কলেজ উত্তরোত্তর সফলতা আসছে। শিক্ষার্থীরা শিখছে তাদের জীবনের নতুন এক ‘আমি’কে । আমি অধ্যক্ষ মহোদয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজ ছাত্র-শিক্ষক যারা বিভিন্ন কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন। যারা পায়নি তারাও পাবে। ভবিষ্যতে এই ধারা চালু রেখে তারা দেশ ও জাতিকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাবে এটাই আমার প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির সঙ্গে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী শিক্ষার্থী এবং অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট শিক্ষকমণ্ডলী। এ সময় প্রধান অতিথিকে কলেজের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন কলেজ অধ্যক্ষ। প্রধান অতিথি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরের অধ্যক্ষ মহোদয়ের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।
Copyright © 2016 All rights Reserved
Powered by: Rapid IT