Please wait...
নোটিশ
''রক্তঋণের স্মরণে—গণহত্যা দিবস-২০২৬

''রক্তঋণের স্মরণে—গণহত্যা দিবস-২০২৬

No Image Found

No Image Found

No Image Found

No Image Found

No Image Found

''রক্তঋণের স্মরণে—গণহত্যা দিবস-২০২৬ এ আবেগ, শ্রদ্ধা ও প্রজন্মের অঙ্গীকার''

বাংলার ইতিহাসে এমন কিছু দিন আছে, যেগুলো শুধু ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়—বরং বেদনা, ত্যাগ আর অমর গৌরবের প্রতীক। গণহত্যা দিবস তেমনই এক দিন। সেই রক্তঝরা স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের সঙ্গে ধারণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী শাহীন কলেজ পাহাড়কাঞ্চনপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে গণহত্যা দিবস-২০২৬।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়ার সুমধুর তিলাওয়াতে পরিবেশ হয়ে ওঠে শান্ত, গম্ভীর ও ভাবগাম্ভীর্যে পূর্ণ। যেন সেই পবিত্র ধ্বনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—এই দেশ, এই স্বাধীনতা কোনো সহজ অর্জন নয়; এটি লাখো শহীদের রক্তে কেনা এক অমূল্য সম্পদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাদেরিয়া বাহিনীর অন্যতম সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খোরশেদ আলম মিয়া। তাঁর উপস্থিতি ছিল পুরো আয়োজনের প্রাণ। তিনি যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন, তখন তাঁর কথার প্রতিটি শব্দ যেন ছুঁয়ে যায় উপস্থিত সবার হৃদয়। যুদ্ধের ভয়াবহতা, নিরীহ মানুষের ওপর নির্মম নির্যাতন, সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ—সবকিছু তাঁর কণ্ঠে যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। তাঁর বর্ণনায় উঠে আসে সেই কঠিন সময়ের সাহস, সংগ্রাম আর অদম্য দেশপ্রেম, যা আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজে এডজুটেন্ট, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক), সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীরা। সবার সম্মিলিত উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে করে তোলে আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী।

অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করেন প্রভাষক তাজিন জাহেদ। তাঁর দক্ষ সঞ্চালনায় প্রতিটি পর্ব হয়ে ওঠে সাবলীল, গম্ভীর এবং অর্থবহ।

পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল এক ধরনের নীরব আবেগ—যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ হৃদয়ে অনুভব করছিল সেই ভয়াবহ ইতিহাসের ভার। এই দিনটি আমাদের শুধু শোকের নয়, বরং আত্মপরিচয় জানার, ইতিহাসকে হৃদয়ে ধারণ করার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

গণহত্যা দিবস আমাদের শিখিয়ে দেয়—স্বাধীনতা মানে শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি একটি চেতনা, একটি দায়বদ্ধতা। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই নতুন প্রজন্ম শপথ নেয়—তারা দেশের মর্যাদা রক্ষা করবে, মানবিকতা ও ন্যায়ের পথে চলবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে।

এই আবেগঘন আয়োজন তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ছিল ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভবিষ্যতের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার। বাংলার এই রক্তাক্ত ইতিহাস কখনো মুছে যাবে না—এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলো ছড়াবে, প্রেরণা জোগাবে এবং আমাদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখাবে।